রবিবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ -|- ২৪শে ভাদ্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-শরৎকাল -|- ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
hridoyechattogram.com - news@hridoyechattogram.com - www.facebook.com/hridoyechattogram/

একজন সৎ ও নীতিবান রাজনীতিবিদএম. ওয়াহেদুজ্জামান চৌধুরী স্মরণে

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯

সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্

রাজনীতি ও সমাজনীতিতে এমন কিছু ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব হয় যারা এই পৃথিবীতে নিজ কর্মে গুণান্বিত হয়ে মরেও অমর থাকেন। তাদের কর্মময় স্বৃতিগুলো রয়ে যায় আজীবন।

এম ওয়াহিজ্জুমান চৌধুরী তেমনি একজন ত্যাগী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ইতিহাস খ্যাত চন্দনাইশ উপজেলার চৌধুরী পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলাতেই পড়ালেখার গণ্ডি পেড়িয়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে চন্দনাইশ ও চট্টগ্রামে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে আওয়ামীগকে সুসংঘটিত করতে অসামান্য ভূমিকা রাখেন।
সর্বোপরি ঘাতকচক্র যখন বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে সপরিবারে হত্যা করে তখন মানুষের বিবেক যখন স্তব্ধ, তখন এই লড়াকু সৈনিক প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েন। চট্টগ্রামের আরেক বিখ্যাত রাজনীতিক শহীদ মৌলভী সৈয়দ এর নৈতৃত্বে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রতিরোধ সংগ্রামে এম ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরীর কথা ভুলবার মত নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তৎকালীন সামরিক সরকারের হাতে গ্রেফতার হন ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী। অনেক অত্যাচার নির্যাতনের পর তাঁকে দুই বছর কারাভোগ করতে হয় । এ অবস্থায় তাঁর উপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন।

তবুও তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থেকে রাজনীতির ময়দানে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যান। চট্টগ্রাম ও চন্দনাইশে তিনি ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একজন বজ্রকণ্ঠি বক্তা হিসেবেও সুখ্যাতি অর্জন করেন। চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে নিরলস ভূমিকা রাখেন।
এ সময় তিনি সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন আহমদ, বর্তমান সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের নিয়ে চন্দনাইশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশাল জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বহু সামাজিক কাজকর্ম করেন। বিশেষ করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ওনার অবদান স্বরণযোগ্য।
২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি – জামায়াত জোটের আমলে তৎকালিন সরকারের স্থানীয় ক্যাডারদের যোগসাজশে এই ত্যাগী নেতার উপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। একবার তাঁকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম, ঢাকা ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মৃত্যুমুখী যাত্রী হয়ে ফিরে আসেন।

ইন্তেকালের আগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সেখানেও দলের কল্যাণে নিরলস ভাবে কাজ করেন।
আমার মরহুম বাবার একজন রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে এম ওয়াহিজ্জামান চৌধুরীকে খুব কাছ থেকে বহুবার দেখা এবং সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে আমার। ওনি বহুবার আমাদের বাড়ীতে এসেছিলেন, সাথে থাকতেন -সাতবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল ওয়াহেদ মাষ্টার, চন্দনাইশের আওয়ামীগ নেতা কায়সার সহ উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। আমি ওনাকে আঙ্কেল বলে ডাকতাম এবং আদরে তিনি পরম মমতায় আলিঙ্গন করতেন। অনেক জায়গায় বহু সভা-সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ওনার বক্তব্য শোনার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। আমার মরহুম বাবার ইন্তেকালের পর যে শোকসভা হয়েছিল সেখানে প্রধান অতিথি হয়ে যে সারগর্ভ বক্তব্য রেখেছিলেন তা এখনো কানে বাজে। ওটাই ছিল আমার সাথে ওনার সর্বশেষ সাক্ষাত।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীগের প্রতি আস্থাশীল ছিলেন। ২০১৩ সালের আজকের এই দিনে নিজ বাড়ীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মহান কর্মবীর ও সংগ্রামী জননেতা মরহুম এম ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। মহান আল্লাহর আল্লাহর কাছে ওনার জন্য জান্নাত প্রার্থনা করি । তাঁর বিশাল কর্মময় জীবনের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন ।