আজ ৭ জুলাই, ২০২০ || ২৩ আষাঢ়, ১৪২৭

শিরোনাম
  আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক নারীর মৃত্যু       ১৫ আনসার ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শন ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন       পটিয়ায় মাচা পদ্ধতিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন প্রকল্পে উপকরণ বিতরণ স্বল্প আয়ের মানুষদের উৎসাহিত করতে হবে: হুইপ সামশুল হক চৌধুরী       পটিয়ায় কৃষি অফিসের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন       ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, ৯ মাস পর মামলা       আল্লামা নঈমীর মৃত্যুতে চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারের চৌধুরীর শোক       পটিয়া পৌরসভা ছাত্রলীগের (প্রবীণ নবীন) এর পরিচালনায় চালু হয়েছে ‘অক্সিজেন টিম সাপোর্ট পটিয়া’।       চন্দনাইশে অসচ্ছল ২ জন সংস্কৃতিসেবীকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অনুদানের চেক বিতরণ       চন্দনাইশে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬৯ জন নন-এমপিও শিক্ষক ও ১৯ জন কর্মচারী প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক পেল       আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী’র মৃত্যুতে যুবলীগ নেতা হোসাইন রনির শোক    


পার্বত্য চট্টগ্রাম। অপার সম্ভাবনাময় একটি জনপদের নাম। প্রাকৃতিক সম্পদ, ভৌগোলিক অবস্থান ও কৌশলগত কারণে এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল যার উপর সুদীর্ঘকাল হতে অন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।
বহুকাল ধরে বহু অপশক্তি ছলে বলে কৌশলে যে কোন উপায়ে এই সমগ্র অঞ্চলটি হস্তগত করার বহু চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
এই অপকৌশলের অংশ হিসেবে যে বিষয়টিকে তারা সবচাইতে বড় অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে তা হলো এতোদাঞ্চলে বসবাস করা উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিরাজমান অসন্তোষ।
মোঘল আমলে এই সমস্ত যাযাবর উপজাতি জনগোষ্ঠীর লোকেরা চাষাবাদের কারণে এবং অারকানে মগ চাকমা সংঘাতের ফলশ্রুতিতে বহু চাকমা জনগোষ্ঠীর লোক পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ের মধ্যে এসে অাশ্রয় গ্রহণ করে এবং পরবর্তী কালে বসতি স্থাপন করে।
এই উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমারা অতন্ত্য স্বাধীনচেতা একটি জাতিগোষ্ঠী এবং যার ফলশ্রুতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বাধীন রাজ্য রূপে অধিকার করতে প্রথমে মোঘলদের সাথে তারপর বৃটিশদের সাথে এবং পাকিস্তান পরবর্তী সময়ে শিশু বাংলাদেশের সাথেও তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ে। অবশ্য বৃটিশ সরকার তাদেরকে অনুগ্রহ করে ১৯০০ সালে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামকে রেগুলেটরি এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করে। তবে তখনো পর্যন্ত তাদের জুম করের দ্বারা জমি চাষের অনুমতি দেওয়া হলেও জমি অধিগ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়নি।
যদিও তারা এদেশে সম্পূর্ণ বহিরাগত শরনার্থী তারপরও তারা এই সমগ্র অঞ্চল নিজেদের বলে দাবি করে বহুবার বিদ্রোহী হয়ে উঠে।

দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্রোহী জনগোষ্ঠী সর্বশেষ ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করে এবং পাকিস্তান পরাজিত হয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে তখনও তারা একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ সৃষ্টির চেষ্টা করে যায়।
যেহেতু বাংলাদেশের সংবিধান ভিন্নমতাবলম্বিদের উপর দমন নীতি স্বীকার করে না তাই শান্তিপূর্ণ ভাবে তাদের নিবৃত রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকে। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর জুম্ম জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখে মানবেন্দ্র নারায়ান লারমা তার লোকজনকে নিয়ে সশস্ত্র অান্দোলন শুরু করে দেয়। শান্তি বাহিনী গঠন করে নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে হাজার হাজার নিরিহ বাঙালি।
তাদের এই নির্দয়তা থেকে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের রক্ষা করতে কয়েকটি গ্রাম নিয়ে তৈরি হয় অসংখ্য শিবির এবং গুচ্ছগ্রাম।
দীর্ঘদিনের এই অভ্যন্তরিন গোলযোগকে নিরসন করতে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি করেন।
মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এবং এবং অত্র অঞ্চলের দীর্ঘ দিনের এই গোলযোগ নিরসনের স্বার্থে দেশের সংবিধান পরিপন্থী সুযোগ সুবিধা দেওয়ায় মাধ্যমে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়। এই অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীর সমস্ত অধিকার খর্ব করা হয়। উপেক্ষা করা হয় বাঙালিরদের অনেক সাংবিধানিক অধিকারকেও। অনেকের স্বপ্ন ছিলো এই বাড়াবাড়ি রকম সুবিধা প্রাপ্ত হয়ে তারা দেশের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করবে। রাষ্ট্রের প্রতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করবে কিন্তু হয়েছে ঠিক তার উল্টো।
তারা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়ে শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এই অঞ্চল নিয়ে অন্তর্জাতিক ভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পরে।
অাঞ্চলিক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার নামে প্রকাশ্য রাজনীতি শুরু করে এবং অান্ডার গ্রাউন্ডে সশস্ত্র অান্দোলন পরিচালনার সকল কিছু এগিয়ে নেয়।
সমগ্র অঞ্চলের শতকরা নব্বই ভাগ সরকারি ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেও দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত থাকে।
সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি সুবিধা বঞ্চিত হয়ে শিক্ষা, চাকরি, সরকারি সুবিধা হতে বিতাড়িত হয়। নির্যাতিত হতে থাকে প্রতিনিয়ত। তাদের উপর হত্যা, নির্যাতন, জুলুম চলতে থাকে ধারাবাহিক ভাবে।
অভিভাবকহীন এই বাঙালির পক্ষে কথা বলার মতো যখন কোন রাষ্ট্র কিংবা মানবাধিকার গোষ্ঠী এগিয়ে অাসছিলো না তখন কয়েকজন বাঙালি নিজেদের অধিকার অাদায়ের জন্য চিন্তা ভাবনা করতে থাকে।
এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালে জনাব অালকাছ অাল মামুন ও ইয়াকুব আলী চৌধুরীর নেতৃত্বে সর্ব প্রথম বাঙালির অধিকার অাদায়ের একটি সংগঠন গঠিত হয়। যার নাম ছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালি ছাত্র পরিষদ।
নিজেদের অধিকার অাদায়ের জন্য এই সংগঠন সকল বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষকে একত্রিত করতে থাকে। অধিকারহীন বঞ্চিত নিপিড়ীত মানুষগুলোর মনে নতুন অাশা জাগে তাদের অভিভাবকদের পেয়ে। হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হতে থাকে বাঙালি সংগঠনের নেতারা। রাজপথে চলতে থাকে অধিকার অাদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ অান্দোলন কর্মসূচি। ইয়াকুব আলী ও অালকাছ অাল মামুনরা সামনে থেকে নের্তৃত্ব দিয়ে এই সংগঠনকে এগিয়ে নিতে থাকে।
দীর্ঘকাল পরিক্রমায় পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন গুলো নানা উপদলে বিভক্ত হতে হতে বর্তমানে পাঁচ ছয়টি অংশে অালাদা হয়ে সমগ্র অঞ্চলে পাহাড়ি বাঙালি সকল জনগোষ্ঠীর উপর জুলুম নির্যাতন, হত্যা, গুম, ধর্ষণ চালাতে থাকে।
অন্যদিকে বাঙালি জনগোষ্ঠীরও একাধিক সংগঠন রাজপথে অান্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। এর মধ্যে সমঅধিকার অান্দোলন, সংগ্রাম পরিষদ, ছাত্র পরিষদ, অধিকার ফোরাম, নাগরিক পরিষদ তারা ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকে।
নানান ক্ষেত্রে সীদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে এই সংগঠন গুলো কিছুটা জনবিচ্ছিন্ন হতে থাকে।

এই যখন অবস্থা তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সংগঠন গুলোকে একত্র করে এবং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামোর ভিত্তিতে অধিকার অাদায়ের জন্য জাতি, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হয়।
সেই ধারাবাহিকতায় সকল সংগঠনের সাথে একটি কার্যকরী অালোচনা শেষে সকল সংগঠনের নেতাদের পারস্পরিক সমঝোতায় ২০১৯ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ নামের একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরির সূচনা হয়।
এবং এটিই হয়ে উঠে পাহাড়ের একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন যেখানে বাঙালি অবাঙালী সকল জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার অাদায়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।

যার নের্তৃত্বে অাছেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার

অালকাছ অাল মামুন ভুইঁয়া এবং বাঙালি ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাঘাইছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র জনাব অালমগীর কবির সহ পূর্বের সংগঠন গুলোর সকল নেতাকর্মী।
বান্দরবান জেলা অাওয়ামিলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব কাজী মুজিবের মতো বাঘা বাঘা নেতা সহ রয়েছেন মাটিরাংগা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান অানিসুজ্জামান, খাগড়াছড়ি পৌর কাউন্সিলর এস এম মাসুম রানা, অধ্যক্ষ অাবু তাহের এবং নারী অধিকার ফোরামের সাবেক নেত্রী সালমা অাহমেদ প্রমুখ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অাঞ্চলিক রাজনীতির খুব দাপট না থাকলেও বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে।
ইতিমধ্যে বিতর্কিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা সহ নানা অান্দোলন কর্মসূচির সফলতা পেয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের অবস্থান নিশ্চিতভাবে অারো সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশের অাঞ্চলিক রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এতে কোন সন্দেহ নেই।


অাহাম্মদ রিদোয়ান
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক লেখক
ও গবেষক।

ফেসবুক মন্তব্য করুন



আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক নারীর মৃত্যু

১৫ আনসার ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শন ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন

পটিয়ায় মাচা পদ্ধতিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন প্রকল্পে উপকরণ বিতরণ স্বল্প আয়ের মানুষদের উৎসাহিত করতে হবে: হুইপ সামশুল হক চৌধুরী

পটিয়ায় কৃষি অফিসের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, ৯ মাস পর মামলা

আল্লামা নঈমীর মৃত্যুতে চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারের চৌধুরীর শোক

পটিয়া পৌরসভা ছাত্রলীগের (প্রবীণ নবীন) এর পরিচালনায় চালু হয়েছে ‘অক্সিজেন টিম সাপোর্ট পটিয়া’।

চন্দনাইশে অসচ্ছল ২ জন সংস্কৃতিসেবীকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অনুদানের চেক বিতরণ

চন্দনাইশে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬৯ জন নন-এমপিও শিক্ষক ও ১৯ জন কর্মচারী প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক পেল

আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী’র মৃত্যুতে যুবলীগ নেতা হোসাইন রনির শোক

চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়ার অধিবাসী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির ইবনে মোহাম্মদ

বাঁশখালীতে ১৪ বছরের মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে পালাক্রমে ধর্ষন- ৪ ধর্ষক গ্রেপ্তার

সাতকানিয়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

বাশঁখালীতে এস.এস.সি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ভুয়া শিক্ষক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ১৫ টি ঘরে আগুন

আগামী ৩ মাসের বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল মওকুফের দাবী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের

দোহাজারী সাঙ্গু নদী থেকে আলম নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মনোনীত হলেন সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী

লবণের দাম বৃদ্ধির ‘গুজব’, বেশি দামে লবণ বিক্রি করায় চন্দনাইশে ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

বাঁশখালীতে গণ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মজিদ বন্দুক যুদ্ধে নিহত